ইটাকুমারী শিব চন্দ্র রায় কলেজটির নাম করনের পেছনে লুকিয়ে আছে ১৭৮৩ সালের বৃটিশ বিরোধী প্রজা বিদ্রোহের গৌরবদীপ্ত ইতিহাস। পলাশীর বিশ্বাস ঘাতকতার কলম্ক মোচনে আমাদের এই ইটাকুমারীর ফতেপুর চাকলা থেকে সূচিতহয়েছিল গৌরবোজ্জলরংপুরের প্রজাবিদ্রোহ । ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন ইটাকুমারীর ততকালীন মানব প্রেমিক জমিদার রাজা শিবচন্দ্র রায় এবং পীরগাছা মন্থনার জমিদার জয় দূর্গা দেবী (বক্মিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের উপন্যাসের দেবী চৌধরানী)। ফতেহপুর চাকলার ইটাকুমারী থেকে সূচিত কৃষক বিদ্রোহ রংপুর ও দিনাজপুরে ছড়িয়ে পড়লে এই বিদ্রোহ দমনে আধুনিক মারনাস্ত্র হয়েছিল সজ্জিত এক বিরাট ইংরেজ বাহিনী সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়। পীরগাছা নাপাই চন্ডির মেলা প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয় রাজা শিব চন্দ্ররায়,দেবী চৌধুরানী এবং দেবী চৌধুরানীর ছোট ভাই কৃষ্ট কেশর চৌধুরী সহ অসংখ্য অনুগামী শীষ্য প্রজা। শিবচন্দ্র ও দেবী চৌধুরণী ১৭৮৩সালে প্রজা বিদ্রোহের নেতৃত্বে দিয়ে দেবী সিং এর অত্যঅচার থেকে রংপুরের নিপীড়িত প্রজাদের রক্ষা করেন। গৌরবগাথা ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গ্রামাঞ্চলের অবহেলিত জনপদে মানসম্পন্ন ভাল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষকে সামনে রেখে ০৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ খ্রিঃ স্থান এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তির নামের সম্বয়ে কলেটির নামকরন হয় “ইটাকুমারী শিবচন্দ্র রায় মহাবিদ্যালয়।’’ইটাকুমরী নির্ভৃত পল্লী হলেও ইটাকুমারী অসাধারনত্ব অন্যখানে । ততকালীন অবিভক্ত বাংলাদেশে দ্বিতীয় নবদ্বীপ হিসেবে ইটাকুমরারীর খ্যাতি ছিল গোটা ভারত বর্ষে । ইটাকুমারী পল্লীতে বহু অধ্যাপক এবং দেশ বিদেশ্গত বহু ছাত্র অধ্যাপনা ও অদ্যায়নে নিযোজিত ছিলেন। অধ্যাপক মন্ডলীর মধ্যে অগ্রণী ছিলেন পন্ডিত কুল চূড়ামনি, রুদ্রমঙ্গল ন্যায়লম্কার । ভারত বর্ষের প্রখ্যাত পন্ডিত যাদবেশ্বর তর্করত্ন, বঙ্গবিখ্যাত ইটাকুমারীর অধ্যাপক রুদ্রমঙ্গল। ন্যায়লম্কার পরিবারের সন্তান ।ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ জনপদ ইটাকুমারীতে জন্মগ্রহন করেন মদ্য যুগের বিখ্যাত কবি শ্রী রতিরাম দাস।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস